শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী আইবুড়ি নদী আজ মৃতপ্রায়। নদীটির নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নদীর দুই তীরের প্রায় ৭০০ পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষিপ্রধান এই দুই ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী ও কচুখালী গ্রামে প্রায় ৬ হাজার বিঘা এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও দক্ষিণ শ্রীফলকাটিতে প্রায় ১৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান, সবজি ও চিংড়ি চাষ হয়। এসব এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদীই ছিল কৃষি সেচ ও জীবিকার প্রধান ভরসা।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর বাজার স্লুইসগেট থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় প্রবেশ করেছে। একসময় নদীতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা চলাচল করত, মিলত প্রচুর দেশীয় মাছ। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীপথে নৌকা ছিল যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম; আয়োজন হতো নৌকা বাইচের মতো উৎসবও। কিন্তু বর্তমানে নদীটি সরু খালে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে নদীতে হাঁস চরার মতোও পানি থাকে না।
এই পরিস্থিতিতে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনঃখননের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১০ টায় ঈশ্বরীপুরের রাজা প্রতাপাদিত্যর রাজধানী খ্যাত ধুমঘাট হাটখোলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীণ কোয়ালিশন এর সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় দুই তীরের গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
মুন্সিগঞ্জ গ্রীণ কোয়ালিশন এর সভাপতি ডাঃ যোগেশ মন্ডল এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রজন্ম রক্তদান সংস্থার সভাপতি আহমেদ রাজু, এসডি মিলন সংঘের মো. শরীফ হোসেন, জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের সাধারণ সাধন কুমার পরমাণ্য, শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠন এর অল্পনা রানী মিস্ত্রি, সাইমুম যুব সংঘের সুমন হোসেন, মধুদ্যুতি মন্ডল প্রমুখ।
মানববন্ধনের সাথে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বিলাল হোসেন ও একাধিক সাংবাদিকবৃন্দ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ ও পানি নিষ্কাশন দুটোই সংকটাপন্ন। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি উদ্যোগে আইবুড়ি নদী পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের মতে, নদীটি পুনরুদ্ধার করা না গেলে কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ—সবই হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply